নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর পলাশে অর্ধমাসব্যাপী ‘শীত আনন্দ মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঘোড়াশাল ফেরিঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পলাশ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও ঘোড়াশাল পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন চিশতীয়া। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে মোট ৪০টি স্টল। এসব স্টলে রয়েছে কুকারিজ, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, জুয়েলারি, বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রসামগ্রী, প্রসাধনী, বাহারি খাবার ও শিশুদের খেলনাসহ নানা পণ্য। দেশের বিভিন্ন নামীদামি প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশ নিয়ে তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে।
দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য মেলায় রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইড। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাগন ট্রেন, নাগরদোলা, স্লিপার, জাম্পিং, ম্যাজিক বোট ও ঝুলন্ত ময়ূর।
উদ্বোধন শেষে মহিউদ্দিন চিশতীয়া মেলার প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং স্টলমালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গেও তিনি কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বলেন, মেলা গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গ্রামবাংলায় যে ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন হতো, পলাশে সেই আয়োজন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আনন্দ আয়োজনের পরিচয় তুলে ধরতেই ঘোড়াশালে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে এ শীত আনন্দ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আনন্দ আয়োজনের পরিবেশ যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মেলায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব সবার। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
মেলার আয়োজক মো. স্বপন মিয়া জানান, আপাতত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১৫ দিনের অনুমতি পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে মেলার সময়সীমা বাড়ানোর অনুমতি পাওয়া গেলে এটি এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রবেশমূল্য রাখা হয়নি।
এদিকে উদ্বোধনের দিনেই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল থেকেই নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা দলে দলে মেলায় আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি পছন্দের পণ্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটান তাঁরা।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিভিন্ন রাইড নিয়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কেউ নাগরদোলায় চড়ে আনন্দে মেতে ওঠে, আবার কেউ ম্যাজিক বোটসহ অন্যান্য রাইডে চড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। সব মিলিয়ে উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই মেলাপ্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।