নরসিংদী প্রতিনিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বাড়ছে নানা হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নরসিংদী জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক সামসুউদ্দিন আহমেদ সামু। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও যোগাযোগ বাড়িয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে প্রতিকূল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করেছে।
সামসুউদ্দিন আহমেদ সামু রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভেলুয়ারচর পূর্বপাড়ার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ আলীর বাড়ির তারু মিয়ার ছেলে। তিনি ব্যবসা, রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এন জামানের ভাগিনা। মামা সান্নিধ্য থেকে ছোটবেলা থেকেই রার্জনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠায় অতি অল্প বয়সেই সামুর রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে গত ১৭ বছর ধরে রায়পুরা উপজেলা যুবদল, নরসিংদী জেলা যুবদল ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন সামু। এ সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক মামলায় কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।
সামুর রাজনৈতিক পথচলা শুরু স্কুলজীবন থেকেই। ২০০০ সালে স্থানীয় সায়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত শ্রীনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে রায়পুরা কলেজে ভর্তি হয়ে ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৩ সালে এইচএসসি পাসের পর একই কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রায়পুরা উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সামু। পরবর্তী সময়ে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় পরে তাঁকে নরসিংদী জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলা যুবদলের এ পদে থাকার পাশাপাশি রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ২০১৬ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সামসুউদ্দিন আহমেদ সামু।
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে চর রায়পুরা উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক, ভেলুয়ারচর যুব সমবায় সমিতির সভাপতি এবং তরুণ প্রবাসী সংগঠন শ্রীনগর ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ঠিকাদারি ও ট্রাভেলস ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে সামু সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ফলে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও উন্নয়ন-প্রত্যাশা সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, সামুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁকে এগিয়ে রাখতে পারে।
এদিকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর আলোচনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাঁকে ঘিরে শ্রীনগর ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয়দের একাংশের প্রত্যাশা, সামসুউদ্দিন আহমেদ সামু নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁরা তাঁকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তাঁদের মতে, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার সক্ষমতাই একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান যোগ্যতা হওয়া উচিত।
শ্রীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখন ইউপি নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামুর নাম উঠে আসায় তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অতীত ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কারা থাকছেন এবং ভোটাররা কাকে বেছে নিচ্ছেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও ভোটের মাধ্যমে।
স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসা একটি প্রত্যাশার কথা হচ্ছে—“জনসেবা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যার, জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার তার।”
এ বিষয়ে সামসু উদ্দিন আহমেদ সামু বলেন, অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, দল এবং শ্রীনগরবাসীর ভালোবাসাকে পুঁজি করে এবার আমি শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ক্ষমতার লোভী নই। ১৯ বছর ধরে যে ত্যাগ আমি স্বীকার করেছি, তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল আপনাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং শ্রীনগর ইউনিয়নের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। বিগত দিনে যেমন শ্রীনগরবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম, বাকি জীবনটাও আপনাদের সেবায় বিলিয়ে দিতে চাই। আমার দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ, আমার সন্তানের ওপর হওয়া অবিচারের বিচার এবং ২০১৬ সালে ছিনতাই হওয়া শ্রীনগরবাসীর
অধিকার ফিরিয়ে দিতে
এবার তাদের পাশে থাকতে চাই। শ্রীনগরবাসীর দোয়া, ভালোবাসা এবং সমর্থনই পারে শ্রীনগর ইউনিয়নকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রীনগর ইউনিয়নকে নতুন করে সাজাই।