নরসিংদীর মাধবদীতে প্রিন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বুধবার বিকেলে মাধবদীর বিরামপুর এলাকার কালীবাড়ি ডাইংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজন দগ্ধ হন।
নিহত মো. জামাল (৩৮) ওই কারখানার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, দগ্ধ অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আমাদের হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছে। এর মধ্যে সকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল নামে একজনের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এছাড়া চিকিৎসাধীন টিপুর ৯০ শতাংশ, ফয়সালের ২৫ শতাংশ, বাবুলের ৮ শতাংশ এবং শাজাহানের ৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় টিপু ও জামালকে বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কালীবাড়ি ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ইকবাল হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমার অনেক বড় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে থেকে সারা জীবন সহযোগিতা করে যাবো। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক দায়-দায়িত্ব পালন করব। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন সকলের সার্বিক চিকিৎসার খরচ দিব। আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার শুধু তাদের নয়, তারা আমারই পরিবারের অংশ। তাই তাদের সকল দায় দায়িত্ব আমার।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে মাধবদীর বিরামপুর এলাকার কালীবাড়ি ডাইংয়ে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে নরসিংদী ফয়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে আগুন নির্বাপণে যুক্ত হয়। মাধবদী ও নরসিংদীর পাঁচটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।