নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীতে মাছের প্রজেক্ট দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের মাছ ধরার জালে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নওশের আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার দিলারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মোছা. রাহিমা বেগম (৩৪)। পরে বৃহস্পতিবার ( ১ অক্টোবর) তিনি নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তের পর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শনিবার (৩ অক্টোবর) নওশের আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদর উপজেলার দিলারপুর এলাকায় বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে রাহিমা বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাছের প্রজেক্ট করে মাছ চাষ করে আসছেন। রাহিমার দাবি, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ওই প্রজেক্টে অনধিকার প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে প্রজেক্ট দখল করে নেওয়া এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাহিমা বেগমের অভিযোগ, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা পেশিশক্তির মাধ্যমে প্রজেক্টের একটি অংশে জাল দিয়ে বেড়া নির্মাণ করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে কয়েক দফা সালিস-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাছের প্রজেক্টের বেড়া দেওয়ার জন্য রাহিমার স্বামী প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের জাল কিনে বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় জসীম মেম্বারের বাড়িতে এ বিষয়ে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তরা প্রজেক্টের দখল ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রাহিমা। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হন বলেও তাঁর দাবি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত চার ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাড়ির উঠানে রাখা মোনাফিক কোম্পানির ২৯৫-এর গ্রিন ফাই জালের স্তূপে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন রাহিমা।
তিনি জানান, আগুনের লেলিহান শিখা দেখে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তাঁরা ঘর থেকে বের হয়ে কয়েকজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এর আগেই প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের জাল পুড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযোগে আনোয়ার হোসেন সরকার (৪৮), আল আমিন সরকার (৪৫), নওশের আলী (৫০) ও মামুন সরকার (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রাহিমা বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নওশের আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করার অভিযান চলমান রয়েছে।