নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু বলেছেন, তিনি এখন থেকে বিএনপির রাজনীতিতেই থাকতে চান এবং বিএনপি করেই জীবন শেষ করতে চান। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় দুলু অভিযোগ করেন, দুই দফায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি-মন্ত্রী রাজু সাহেব তাকে জোর করে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, তাকে নির্বাচন অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে তিনি নিজেকে কখনো আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দেখেননি; বরং আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, একসময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করতে গিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলেছেন। তবে তার ভাষায়, “মূলত ছোটবেলা থেকেই আমি বিএনপি করি। আমার এলাকার ভাইয়েরাও বিএনপির লোক।”
আলী আহম্মেদ দুলু বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি খোকন ভাইয়ের মাধ্যমে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে না আনলেও পরে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের অনুমতি নিয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তার দাবি, সেই সভার মাধ্যমেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে ফিরে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি ছাত্রদল করেছি, বিএনপিতেই ছিলাম। এখন নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। আজ থেকে সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে পুরোপুরি বিএনপিতে যোগ দিলাম। এখন থেকে বিএনপির সব এমপি-মন্ত্রীসহ সবার সঙ্গে ফুল নিয়ে দেখা করব। বিএনপি করেছি, বিএনপিতেই এসেছি, আর বাকি জীবন বিএনপিতেই থাকতে চাই।”
তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলী আহম্মেদ দুলু আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং দলীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা আরও জানান, তিনি জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদেও ছিলেন। এসব পদে থেকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকার পর হঠাৎ বিএনপিতে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।