নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেরে বাড়িতে ঢুকে আব্দুল্লাহ ওরফে বাবু (২৬) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শহরের চৌয়ালা মহল্লায় লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ চৌয়ালা এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফুচকা বিক্রেতা। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবু লাল ও হেলালের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একসময় লাল ও হেলাল একই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সম্প্রতি এলাকাভিত্তিক আধিপত্য, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। উভয় পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি হেলাল গ্রুপের সাথে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসী আবু লালসহ তার গ্রুপের লোকজন এলাকা ছেড়ে গাঁ ঢাকা দেয়। কিছু দিন আগে আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা হেলালের উপর হামলা করে আহত করে। ফলে হেলাল তার দলবল নিয়ে আবু লালের ওপর হামলা করার উদ্দেশ্যে খোঁজতে থাকে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার আবু লাল সন্ত্রাসী হেলাল গ্রুপের সদস্য শফিকুল নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করে। আহত শফিকুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বাবুসহ কয়েকজন।
এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে আবু লাল গ্রুপের লোকজন একটি বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুল্লাহ ওরফে বাবুকে গুলি করে তারা পালিয়ে যায়। হামলায় বাবুর বড় ভাই রুবেল (৩০) ও অপর পক্ষের মিরাজ (২০) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ আব্দুল্লাহকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।অপর দুই আহতের মধ্যে রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন এবং মিরাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এসময় পাল্টা প্রতিরোধ করে হেলাল গ্রুপের সদস্যরা।
নিহতের বড় ভাই রুবেল বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় আবু লাল ও হেলাল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সম্প্রতি আবু লালকে এলাকা ছাড়া করা হয়। বিকেলে আবু লাল ২০ থেকে ২৫ জনকে নিয়ে আমার ভাইকে শুধু শুধু গুলি করে হত্যা করে। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমিও আহত হয়েছি। আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
নরসিংদী সদর হানপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, তিনজনকে আমাদের হাসপাতালে আনা হলে এদের মধ্যে বাবু ওরফে আব্দুল্লাহকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য দুই জনের মধ্যে মিরাজ নামে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আর রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। নিহত বাবুর বুকে ও হাতে ক্ষতের চিহ্ন ছিলো। আর মিরাজের দুই হাত সহ একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছে। এর মধ্যে আহত মিরাজকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আহত মিরাজকে আটক করা হয়েছে।