বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন

তিথি হত্যা রহস্য উদঘাটন লুট হওয়া টাকাও আলামত জব্দ করলেন পিবিআই

Reporter Name
Update : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

জুবায়ের আহমেদ জনি

 

 

নরসিংদীর শেখেরচরে ঘরে ঢুকে সুমনা আক্তার তিথি (১৩) নামে এক কিশোরীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা ও তার মাকে আহতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।উদ্ধার হয়েছে লুট হওয়া ১০ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা এবং বিভিন্ন আলামত সহ গ্রেফতার করেছেন ৪ জনকে

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো: এনায়েত হোসেন মান্নান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ফরিদপুর জেলার মধুখালি থানার পাঁচই এলাকার বাসিন্দা ফরিদ হোসেনের ছেলে মো: রমজান শেখ ওরফে লিমন (২২), তার বড় ভাই হাসিবুর রহমান শান্ত (৩১), নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা এলাকার বাসিন্দা ইনসান মিয়ার ছেলে মো: কাউছার মিয়া (২০) এবং নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার চর গোয়াশ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক ওরফে বাবলুর ছেলে মো: ইমন আলী (২১)। তারা উভয়ই শেখেরচর এলাকার ভাড়াটিয়া।

পুলিশ সুপার মো: এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিদেশ হতে পাঠানো মোটা অংকের টাকা লুট করতে শেখেরচর এলাকার ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে ঢুকে গ্রেপ্তারকৃতরা। এসময় ৭ বছরের প্রতিবন্ধী শিশু সন্তানকে বাথরুমে আটক রাখে তারা। পরে বাসায় থাকা টাকা লুট করার সময় বাধা দিলে গৃহবধূ আসমা বেগম (৪৫) ও তাদের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমনা আক্তার তিথিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে তিথীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত মা আসমা বেগম ঢাকার একটি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিওতে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদী, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা ও বরিশালে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া ১০ লাখ ১ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আসামী রমজান শেখের পায়ের রক্তের দাগ যুক্ত একজোড়া কাপরের জুতা, ১টি হাতুড়ি, সিমকার্ড সহ ৩টি এন্ড্রয়েড ও ২টি বাটন মোবাইল, রক্তযুক্ত একজোড়া হাতের সাদা গ্লাভস, আনুমানিক ৩ফিট লম্বা রক্তযুক্ত ৩টি কালো রশি, একটি কালো মাক্সসহ ভিকটিমদের পোষাকের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহকর্তা মোফাজ্জল হোসেনর ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও সন্তানকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category