আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মনোহরদীতে পুলিশের গাড়ী, নির্বাচনী ক‍্যাম্প ও মাইক ভাংচুর; পুলিশসহ আহত ১২

মনোহরদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর মনোহরদীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়ী, প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক‍্যাম্প ও প্রচার মাইক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার চরমান্দালিয়া ও খিদিরপুর ইউনিয়নে পৃথক ঘটনা ঘটে। হামলায় পুলিশসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। আহতরা পুলিশ সদস্যরা হলেন এএসআই শহিদুজ্জামান, এটিএসএআই সোহেল পারভেজ, কনস্টেবল আবু নাইম বিন হুদা। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো শতাধিক লোকের নামে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সমেদ চান্দের বাজারে চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদির এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিছ উদ্দিন শাহিনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আধা ঘন্টা পর মাস্টার বাড়ি বাজারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান আনিছ উদ্দিন শাহিনের সমর্থকরা নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে। তাৎক্ষনিক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে পাশর্^বর্তী মতির বাজারে অবস্থান নেয়। সেখানে শতাধিক ব্যক্তি জড়ো হয়ে পুনরায় নৌকার সমর্থকদের উপর হামলার প্রস্তুতি নেয়। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উত্তেজিত সমর্থকরা পুলিশের উপর হামলা করে এবং গাড়ী ভাংচুর করে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়। তাদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল কাদির বলেন, ‘আনারস প্রতীকের প্রার্থী শাহিনের সমর্থকরা আমার অফিসে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করে। ভাংচুরের খবর শুনে আমার সমর্থকরা এগিয়ে আসলে তাদের মারধর করে। এসময় আহত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, নৌকার সমর্থক ইকবাল হোসেন, সজিব হোসেন এবং কালা মিয়া।’

আনারস প্রতীকের প্রার্থী আনিছ উদ্দিন শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘নৌকার সমর্থকরা আমার লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে খিদিরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিলের প্রচার মাইক, অটোরিকশা ভাঙচুর ও চালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে সাগরদী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চেয়ারম্যান জামিল।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধার পর সাগরদী বাজার এলাকায় মাইকে আমার প্রচারণা চলছিল। এ সময় আ’লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী রমিজ উদ্দিনের লোকজন আমার প্রচার মাইক, অটোরিকশা ভাংচুর এবং চালককে মারধর করে। এ ছাড়া নৌকার প্রার্থীর ছেলে-মেয়ে এবং কর্মীরা নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াতে প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকী দিচ্ছে। এ ঘটনায় রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

তবে নৌকার প্রার্থী রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা আমার জানা মতে ঘটেনি। প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে।’

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের উপর হামলা এবং গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ