রায়পুরা প্রতিনিধি
নরসিংদীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক দৌড়বিদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “রায়পুরা ম্যারাথন”। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে চারটায় উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু হয় এই ম্যারাথন।শুক্রবার ভোর হতে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ম্যারাথনে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের প্রায় ৭ শ’ জন দৌড়বিদ তিনিট ক্যাটাগরিতে অংশ নেন।
এর আগে অনানুষ্ঠানিক ভাবে রায়পুরার রানার্স কমিউনিটির আয়োজনে দুইবার হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হলেও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ সংখ্যক দৌড়বিদ নিয়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে নরসিংদীর ইতিহাসে এটাই প্রথম ফুল ম্যারাথন। অনুষ্ঠিত ম্যারাথনে বাংলাদেশ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড, রাশিয়া, চীন, জাপান ও চেক রিপাবলিকের ১৫ জন নাগরিকসহ প্রায় ৭০০ নারী-পুরুষ দৌড়বিদ অংশ নিয়েছেন।
এর মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠেয় ফুল ম্যারাথনে ৪২ কিলোমিটারে প্রায় ১০০ জন, হাফ ম্যারাথনে ২১ কিলোমিটারে প্রায় ৩০০ জন ও ১০ কিলোমিটার ম্যারাথনে প্রায় ৩০০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। এর আগে অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথনে অংশ নিতে সর্বমোট ১০০০ দৌড়বিদ রেজিস্ট্রেশন করলেও প্রতিযোগিতায় ৭০০ এর কিছু কম সংখ্যক প্রতিযোগী বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।
শুক্রবার হালকা শীতে কুয়াশা ঢাকা ভোরে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ মাঠে একত্রিত হন রেজিস্ট্রেশন করা এসব দৌড়বিদ। বিভিন্ন বয়সী ও পেশার দৌড়বিদের উপস্থিতি পুরো এলাকা উৎসব মুখর হয়ে উঠে।
পরে ভোর সাড়ে চারটায় রায়পুরা উপজেলা পরিষদ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দৌড়বিদরা দৌড় শুরু করে
নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কের হাসনাবাদ ১০ নাম্বার ব্রীজ এলাকা হয়ে পূণরায উপজেলা পরিষদে এসে তাদের দৌড় শেষ করে। এসময় প্রতিযোগীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, গ্রামপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যসহ ২০০ এর অধিক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত ছিলো। চিকিৎসা সেবার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সসহ মেডিক্যালটিম কাজ করেছে ।
এছাড়া এ ম্যারাথনকে ঘিরে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কসহ শ্রীরামপুর রেলগেইট টু রায়পুরা বাজার সড়কে মধ্যরাত থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ফুল ম্যারাথনের চ্যাম্পিয়ন পাবনার ইমরান হাসান তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এর আগে ২০২৩ সালে রায়পুরা হাফ ম্যারাথনে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, ২০২৪ সালেও ফুল ম্যারাথনে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। স্বেচ্ছাসেবী ভলান্টিয়ারদের নিয়ে সুন্দর পরিবেশে এমন একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় রায়পুরা রানার্স কমিউনিটি উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন এ ধরনের প্রতিযোগিতায় তরুণরা আনন্দিত ও উৎসাহিত হবে এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে তরুণ সমাজ দূরে থাকতে পারবে বলেও তিনি মনে করেন।
‘রায়পুরা ম্যারাথন’ আয়োজক কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান বলেন, যুব সমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ ও ফোন আসক্তি থেকে ফিরাতে আমাদের এই উদ্যোগ। সামাজিক ব্যবস্থা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে পরবর্তীতে আরও বড় পরিষরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যারাথনের আয়োজন করা হবে। ম্যারাথনে দৌড়বিদের অংশগ্রহণ ও আয়োজনের সার্বিক পরিস্থিতিতে সকলেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। পরে বিজয়ীদের মাঝে ম্যাডেল, সনদ ও গাছেরচারা প্রদান করা হয়। এছাড়া তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৯ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীদের হাতে প্রাইজ মানি তুলে দেওয়া হয়।
‘রায়পুরা ম্যারাথন’ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আযোজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনজুর এলাহী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শামসুল আরেফীন, নরসিংদী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান মনির, রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সূধী সমাজ ও আয়োজকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, তরুণ প্রজন্ম লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে, তাদের সঠিক ট্যাকে ফেরাতে এই আয়োজন কাজে আসবে। শিশুরা বর্তমানে খেলা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। তারা মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইসে বেশি সময় পার করছে। তারা মাঠে এসে খেলাধূলা করলে স্বাস্থ্য, মন ও মনোযোগ সকল কিছুই বৃদ্ধি পাবে। আমরা সুস্বাস্থ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলতে চাই। ভবিষ্যতে এই আয়োজনের কলেবর বৃদ্ধি পাবে। অন্য উপজেলায়ও এর আয়োজন করা হবে।



