সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ-২০২৬’ পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাংবাদিক সমাজ।
১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং ১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আজ সময়ের দাবি।
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দেশের সাংবাদিকরা এখনও যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে আগামী ১ থেকে ৭ মে “১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ-২০২৬” উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে আগামী ৭ মে বৃহস্পতিবার ঢাকায় ১৪ দফা দাবিতে সাংবাদিক সমাবেশ ডেকেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে ২৮ এপ্রিল সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজন ও সমাবেশের সময়সূচী জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিকট চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা আরও সুসংহত হবে।

দেশে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সপ্তাহ রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হলেও সাংবাদিকদের জন্য এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, সুরক্ষা আইন, তালিকা প্রণয়ন ও পৃথক অধিদপ্তরের অভাবে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
গেল ৩ মে ছিল“বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হয়নি। যা সত্যিই দু:খজনক। ভবিষ্যতে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হলে দেশের সাংবাদিক সমাজ হয়তো এই দিনটির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পাবে। তাই সাংবাদিকদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে দিপুষ্টি পালনের জন্য সরকারের কাছে সাংবাদিকদের জোর দাবি।
৩রা মে মাঝে রেখে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ২০১৭ সাল থেকে উদযাপিত হচ্ছে। আমরা দেখেছি এদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ নেই, পরিকল্পনাও নেই। এদেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা বিগত ৯ বছর ধরে এ সপ্তাহটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করে আসছে। এবছর ১০ম বারের মত উদযাপন করবে। বর্তমান সরকার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বার্থে ন্যায়সঙ্গত ১৪ দফা দাবিসহ গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবেন বলে আশা করেন।
এ প্রেক্ষাপটে “১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ”কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আজ সময়ের দাবী। আর এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ ও বিবেচনা দেশের সাংবাদিক সমাজকে তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে পাবে।