আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রায়পুরায় শান্তির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ অর্ধশত সামাজিক সংগঠন, প্রশাসনের একাত্মতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

“আমরা রায়পুরায় শান্তি চাই” এই স্লোগান কে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত অর্ধশত সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বুধবার উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোঃ আজগর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাদেক।

উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাদেক বলেন, আমরা সবসময়ই শান্তির পক্ষে। এতগুলো সামাজিক সংগঠনকে একসাথে পেয়ে আমিও আনন্দিত। শুধু চরাঞ্চল নয়, পুরো রায়পুরায় শান্তির লক্ষে আজ থেকে আপনাদের সাথে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন একসাথে কাজ করবো। মঞ্চে নয়, মাঠে-ময়দানে গিয়ে আমরা ঝগড়া-বিবাধ সৃষ্টিকারীদের কাছে যাবো। তাদেরকে নিয়ে শান্তির লক্ষে কাজ করবো। যতদিন শান্তি ফিরে না আসবে ততদিন আমরা মাঠে থাকবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজগর হোসেন সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আপনাদের এ মহৎ উদ্যোগের সাথে প্রশাসন একাত্মতা পোষন করেন। তিনি আরো বলেন, আপনাদের জন্য আমরাও পরিবারকে সময় দিতে পারছি না। অফিস টাইম শেষ হয়ে গেলেও রাত নেই, দিন নেই আপনাদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এতে আমাদের পরিবারও আমাদের প্রতি বিরক্ত। আপনারা শান্তিতে থাকলে আমরাও শান্তিতে থাকবো।

রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তফা খান বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবকিছু বদলে গেলেও এখানকার জীবনাচারের স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হওয়া টেঁটাযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করলে মনে হবে আধুনিকতা বা সভ্যতা এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মন-মগজে কোনো আঁচড়ই কাঁটতে পারেনি। মূলত বৃটিশ শাসনামল থেকে এখানে টেঁটাযুদ্ধের সূচনা হয়। ওই সময় কৃষকরা হিংস্র জীব-জানোয়ারের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা ও একইসঙ্গে জীবন-জীবীকার তাগিদে নদী থেকে মাছ শিকার করার জন্য নিজেরাই লোহা পুড়িয়ে তৈরি করতো টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রপাতি। সেই মাছ শিকারের অস্ত্র দিয়ে এখন তারা মানুষ শিকার করছে। এসব দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঝিয়িয়ে রাখার কারন হিসেবে স্থানী জনপ্রতিনিধিদেরকে দায়ী করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তফা খান। তিনি বলেন এসব দাঙ্গা-হাঙ্গামায় নেতৃত্বদানকারী দলনেতাদেরকে নিয়ে বসলে শান্তির ফিরে আসবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের দাদা-বাবারা যেভাবে চলে গেছেন আমরা সেভাবে চলতে চাই না।

আলোচনা সভায় আমরা নরসিংদী বাসী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোঃ তৌকির আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মোস্তফা খান, সাধারণ সম্পাদক এম নুর উদ্দিন আহমেদ, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ব্লাড ডোনার ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, সেচ্ছাসেবক ফাউন্ডেশন নরসিংদী জেলা শাখার সহ-প্রধান সেচ্ছাসেবক ও রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুহিন ভুইয়া, শতদল র্স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম, আমরা নরসিংদীবাসী রাধানগর ইউনিয়নের আহŸায়ক শামীম আহমেদ, চলো গড়ি রায়পুরার আহবায়ক রাতুল চৌধুরী, রায়পুরা উপজেলা উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আনিছুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমেনসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারীবান্দি গ্রামে আধিপত্যবিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২জন নিহত সহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ