মাধবদী প্রতিনিধি 

নরসিংদীর মাধবদীতে রিজিক নামে তিন মাসের এক নবজাতকের পা  ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে| একইসঙ্গে এ ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে  গ্রেফতার করেছে পুলিশ|

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন|

ভুক্তভোগী শিশু রিজিক সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামের মো. জহির ও সাইফা আক্তারের সন্তান|

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও চাচার শ্বশুর আলমাছ মিয়া| তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা| ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে মামলার প্রধান আসামী চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে|

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার মো. জহির ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক| জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন রোগে অসুস্থ থাকায় শিশুটি প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল| শিশু রিজিকের বাবা মো. জহির ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একই সঙ্গে থাকেন, তাদের যৌথ পরিবারভুক্ত রয়েছেন।

শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণসহ গীতা করতে না পারায় চাচি লতা বেগম প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের  কটুক্তি করতেন। এ নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল|

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন|একপর্যায়ে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওয়াশরুমে গেলে এই সুযোগে চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন| শিশুটির মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার পূর্বেই কৌশলে মোবাইল ফোনের ভিডিও রেকর্ডার চালু করে যান| বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ এবং অভিযুক্ত লতার বাবা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চেয়ে ছিলেন|

পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন| তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন| তবে এর আগেই সাইফা আক্তার ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন| এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়|

এর আগে, শিশুটির বাবা জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিনদিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে| শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি| পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি| তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই| এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন|

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে| অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন| শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন| তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না| তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই| সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন|এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে|

ওসি আরো বলেন, শিশুটিকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে| তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি| অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে|

প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে| ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে| বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ|