নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি দখল করে কারখানা নির্মাণের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর সরেজমিনে তদন্ত করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সওজ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে সওজের জায়গা দখল করে ‘শশী আরি এমব্রয়ডারি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থায়ী দালানঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল। সরকারি জায়গার ওপর ইট-পাথরের দেয়াল তুলে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ফুট দীর্ঘ এবং ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রস্থের দালান ঘরটির অর্ধেক অংশের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে মেশিন স্থাপন করে উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। ভবনের অবশিষ্ট অংশের দেয়াল ও টিনের চালার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে নিচের ফ্লোর ঢালাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে রড বসানো হয়েছে। শুধু ঢালাই ও দেয়ালের প্লাস্টারের কাজ শেষ হলেই পুরো ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।

এ সময় বিষয়টি নজরে আসে নরসিংদী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও শিরোনাম প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক মো. শাহাদাৎ হোসেন রাজুর। তিনি কারখানার পরিচালক মো. সুমন সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে সুমন সরকার বলেন, “সরকারি জমিতে বিল্ডিং তুলছি, তাতে কী হইছে? সরকারের যখন লাগব, তখন ভাইঙ্গা দিমু। তাছাড়া আপনি কি জানেন, এখানে কতজন লোক কাজ করতে পারবে, কতগুলো পরিবার চলবে? এত কথা না কইয়া আপনি আইসা দেখা কইরেন।”
এর উত্তরে ওই গণমাধ্যমকর্মী বলেন, “আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করার কথা বলেছি?” এরপরই তিনি নিজেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরে বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ), নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দারের দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একজন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠান। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কারখানার মালিকপক্ষকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, “আমাদের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি এ্যাস্টেট কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সরকারি জমি কোনোভাবেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে যেতে পারে না। তাই দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দখলমুক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এখন জেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।