নরসিংদী প্রতিনিধি
শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্য্যে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন এবং ভূমিকম্পের সময় ভয়ে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাড়িতে একজনের মৃত্যূ হয়। এ নিয়ে ভূমিকম্পে জেলায় মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ৭০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভূমিকম্পে নিহতরা হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার শহরতলী গাবতলি এলাকার দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৪০) ও তার ছেলে হাফেজ মো. ওমর (১০), পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৬৫) এবং ভয় পেয়ে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৬৪)।
জানা যায়, নরসিংদী শহরতলীর গাবতলী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের মালামালের নিচে পড়ে আহত হয় ৪ জন। তাদের মধ্যে নিহত দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে হাফেজ মো. ওমরের মাথায় নির্মাণাধীন ওই ভবন থেকে ইটা এসে পড়লে তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে হাফেজ মো. ওমর মারা যায়।
পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়েন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান।
এছাড়াও পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের কাজীরচর নয়াপাড়া এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন ভূমিকম্পের সময় নিজ বাড়িতে ভয় পেয়ে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
ভূমিকম্পে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন ভবন, বসতবাড়ি, মার্কেট ও দোকানপাট থেকে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ভূমিকম্পের সময় অনেকে মাথা ঘোরপাক খেয়ে পড়ে গিয়ে, বুকে ব্যাথা নিয়ে ও স্ট্রোক করে আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহতদের মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন সৈয়দ আমীরুল হক শামীম।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পাশাপাশি একই এলাকায় একটি ডেইরি ফার্মের (গরুর) মাটি ফেটে আলাদা হয়ে গেছে। পাশাপাশি এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে বসতবাড়ি, মার্কেট ও বহুতল বেশ কয়েকটি ভবনে ফেটে হেলে পড়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। এই ভূমিকম্পে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে নরসিংদীসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন ভবন, বসতবাড়ি, মার্কেট ও দোকানপাট থেকে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ভূমিকম্পের সময় অনেকে মাথা ঘোরপাক খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহতদের মধ্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫০ জন, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১০ জন ও পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন সৈয়দ আমীরুল হক শামীম।
ভুমিকম্পে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাজারের ছয়তলা বিল্ডিং এসএ প্লাজায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিল্ডিংয়ে মারকাযুস্ সুন্নাহন তাহ্ফীজুল কোরআন মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসার পরিচালক মুফতি সালাহ উদ্দীন আনসারী ফাটলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া ঘোড়াশালের লেবুপাড়া এলাকায় ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তাছাড়া পলাশ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের পাশে একটি বিল্ডিং এ ফাটল দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ঘোড়াশাল নতুন বাজার গ্রামের ইসহাক মিয়ার বাড়ি ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ছাড়া প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার খ্যাত পাইকারি কাপরের হাট নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাট বাজারের ধুমকেতু মাঠে একটি চারতলা ভবন (মাধবদীর সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেনের মালিকানাধীন) হেলে পার্শ্ববর্তী বিল্ডিং এ পড়েছে। এতে কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। যার কারণে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল শহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে এ আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।