নরসিংদী প্রতিনিধি
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ ৪৬ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাত জন বাকি সবাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্চেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত নরসিংদী জেলা ও উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে এ মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। এর মধ্যে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে ৮ জন, নরসিংদী-২ পলাশে ৮ জন, নরসিংদী-৩ শিবপুরে ১০ জন, নরসিংদী-৪(বেলাব-মনোহরদী) ৯ জন ও নরসিংদী- ৫ রায়পুরা আসনে ১১ জন জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৪৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

নরসিংদী-১ (সদর) আসনে বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, জামায়াতের মোঃ ইব্রাহিম ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. আশরাফ হোসেন ভূঁইয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে হামিদুল হক পারভেজ, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের অ্যাড. শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টে সাখাওয়াত হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি মো. মোস্তফা জামান, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরীসহ মোট ৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, জামায়াতের জেলার সেক্রেটারি জেনারেল মো. আমজাদ হোসাইন, এনসিপি থেকে মোঃ গোলাম সারোয়ার (তুষার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার মুহসীন আহমেদ, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ থেকে মোঃ ফারুক ভূইয়া, জাতীয় পার্টির এ.এন.এম রফিকুল আলম সেলিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে বিএনপি থেকে মন্জুর এলাহী, জামায়াতের মো মোস্তাফিজুর রহমান কাউসার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওয়ারেজ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. রাকিবুল ইসলাম (রাকিব), জাকের পার্টির আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রায়হান মিয়া, জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম বাছেদ, গণফোরামের একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবদুল মান্নান ভূইয়া পরিষদের সদস্য সচিব মো. আরিফ-উল-ইসলাম মৃধা, জনতার দলের মো. এনামুল হক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, জামায়াতের মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফুল্লাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাজী সাজ্জাদ জহির, জনতার দল আবু দার্দা মো. মাজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহাম্মদ মিলন মিয়া, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে শফিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদরুজ্জামান উজ্জল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের তাজুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মেহেরুন্নেছা খান পন্নী (হেনা), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. গোলাপ মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. পনির হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. সুলায়মান খন্দকার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টে মশিউর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বঙ্গবন্ধুর দূর সম্পর্কীয় দৌহিদ্র ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এদিকে দুপুরে নরসিংদীর পলাশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পলাশ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. আবদুল মঈন খান মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্র হচ্ছে সকল রোগের নিয়ামক। যদি আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আচরণ করি তাহলে বাংলাদেশের সকল সমস্যা সমাধান হবে। একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বাংলাদেশের কাঁধে চেপে বসেছিল। যার মাধ্যমে তারা এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। আমরা সবসময় বলেছি বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যেটির উদারপন্থী রাজনৈতিক দল এবং তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি সুষ্ঠু ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তখনই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
এব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন আকন্দ বলেন, জেলার ৫ টি আসনে ৪৬টি মনোনয়ন ফরম জমা হয়েছে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তবে তিনি স্ব-শরীরে উপস্থিত নাকি প্রতিনিধির মাধ্যমে জমা দিয়েছেন এবিষয়টি নিশ্চিত নন তিনি।