আজ ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আত্মহত্যা নয ময়নাতদন্তে প্রমাণিত: শাহিনুরকে শ্বাসরোধে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর চরাঞ্চলে গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (২৪)’র মৃত্যূর রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সে বিষপানে আত্মহত্যা করেনি বরং তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ শাহিনুর বেগমকে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় শ্বশুরবাড়ি লোকজন।

গৃহবধূর শাহিনুরের মৃত্যুর পর তার মা বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় স্বামীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে পাঁচজনই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে খাদিজা আক্তার নামে একজন জামিনে মুক্ত হয়। বাকি চারজন বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।

নিহত গৃহবধূর শাহিনুর বেগম (২৪) নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামের শরিফ মিয়ার স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যার বয়স প্রায় আড়াই বছর।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের শ্রীনগর দড়িপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে শাহিনুর বেগমের আলোকবালি ইউনিয়নের নেকজানপুর গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে প্রবাসী শরিফ মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী শরিফ মিয়া, শাশুড়ি খাদিজা বেগম, শ্বশুর মোমেন মিয়া, দেবর জামাল মিয়া ও হাসান মিয়া বিভিন্ন সময় শাহিনুর বেগমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে আলোকবালীর নেকজানপুর গ্রামের শরিফ মিয়ার বাড়িতে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এ সময় শরিফ মিয়া ও অন্যান্য অভিযুক্তরা শাহিনুর বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমানজনক কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে ‘মরতে’ উসকানি দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় প্রতিবেশী ও নিহতের খালা নিপা আক্তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালার ফাঁক দিয়ে তিনি দেখতে পান, শরিফ মিয়া শাহিনুর বেগমের গলায় হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করছেন এবং বুকে কিল-ঘুষি মারছেন। এক পর্যায়ে শাহিনুর বেগম অচেতন হয়ে পড়েন। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে চালিয়ে দিতে শাহিনুর বেগম ‘বিষ পান করেছে’ বলে দাবি করেন এবং তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা মরদেহ নিয়ে গা ঢাকা দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিহতেরএ ব্যাপারে এ ব্যাপারে ধরে না কেন পরিবারকে কোন কিছুই জানায়নি। পরদিন সকালে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, নিহতের শ্বাসনালীতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ভিসেরা পরীক্ষায় কোনো বিষাক্ত দ্রব্যের অস্তিত্ব মেলেনি। চিকিৎসক বোর্ডের মতে, শ্বাসরোধ (Throttling)-এর কারণেই শাহিনুর বেগমের মৃত্যু হয়েছে, যা একটি হত্যাকাণ্ড।

শ্রীনগর দড়িপাড়্ এলাকার একটি কুচক্রী প্রভাবশালী মহল আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে এই হত্যা মামলা কে অন্যভাবে প্রভাবিত করার জন্য বাদীর পক্ষকে ভুলভাল বুঝানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু জেলা পুলিশের সূক্ষ্ম নজরদারি ও সঠিক তদন্ত পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সবকিছুর অবসান ঘটায়। হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়।

এ ব্যাপারে নরসিংদী সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সামিউল হক জানান, আমলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করেছি। শাহিনুর হত্যাকাণ্ডের পরপর ৩০৬ ধারায় (হত্যার প্ররোচনায়) থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা যায় এটি একটি হত্যাকাণ্ড। নিহত শাহিনুর বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ৩০২ ধারা আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ