আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চেক জালিয়াতির মামলা; বাদী চেনেনা বিবাদীকে

খাসখবর প্রতিবেদক

ইতিমধ্যে নরসিংদীর বেলাবসহ পুরো জেলায় সুদি আসাদের নাম আজ অনেকের মুখে মুখে। পোল্ট্রি ব্যবসার আড়ালে তার সুদ বাণিজ্যের কথা কারোই অজানা নেই। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বদৌলতে বেলাব’র মাটিয়াল পাড়া এলাকার আসাদুজ্জামান আসাদ আজ সবার কাছে সুদি আসাদ নামে পরিচিত। শুধু সুদ ব্যবসাই নয় একজন মামলাবাজ হিসাবও এলাকায় রয়েছে তার বেশ নাম ডাক।

এই মামলাবাজ সুদি আসাদ আবারও ব্যবসায়ী সুজন খন্দকারের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিতে নিজের সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) তাইজুদ্দিন মোল্লা তাইজুলকে দিয়ে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করিয়েছে। এই তাইজুল তার প্রতারণার আরেক সহযোগী। ব্যবসায়ী চুক্তি বদ্ধ হয়ে লাভের বড় অংশ দেওয়ার শর্তে সুজন খন্দকারকে টাকা ধার দেয় প্রতারক তাইজুল। এমনটাই মামলায় উল্লেখ থাকলেও অথচ মামলার বাদী এই প্রতারক তাইজুল নিজেই চিনেনা। (যার তথ্য ভিডিও নরসিংদী খাসখবর অফিসে সংরক্ষিত আছে)।

জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর নরসিংদীর বেলাব উপজেলার গাংকুল পাড়া এলাকার ইব্রাহীম মোল্লার ছেলে প্রতারক মো. তাইজুদ্দিন বাদী হয়ে একই উপজেলার চন্দনপুর এলাকার মৃত খন্দকার মো. গোলাম মোস্তফার ছেলে ব্যবসায়ী মো. সুজন খন্দকারের বিরুদ্ধে নরসিংদী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেক জালিয়াতির এ মামলা দায়ের করে। যা- মামলা নং ৪৬৮/২০২২ বেলাব সিআর আদালত।

মামলায় বলা হয়. চলতি বছরের ৯ জানুয়ারী বালির কাছ থেকে বিবাদী সুজন খন্দকার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায় সিলিন্ডার প্রতি ৮০ টাকা লাভের ৬০ টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নগদ ৩৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিবাদী কোন টাকা পয়সা না দেওয়ায় বাদী পক্ষের চাপে পড়ে গত ১৪ জুন লভ্যাংশসহ ৩৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার পূবালী ব্যাংক বেলাব শাখার একটি চেক প্রদান করেন। যার নং- এএস১০০-বি-৯৩৯৭৩১০ (AS100-B-9387310)। পরে বিবাদীর একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তাকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলে তিনি তার জবাব না দেওয়ায় বাদী তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

এর আগে বাদী তাইজুদ্দিন মোল্লা বিবাদী সুজন খন্দকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরে গত ১২ অক্টোবর নরসিংদীর খাসখবর টিম সুজন খন্দকারকে সাথে নিয়ে মরজাল বাসস্ট্যান্ডের একটি চায়ের দোকানে তাইজুলের সাথে কথা বলতে যায়। ওই সময় সুজন খন্দকারকে তার পাশে বসিয়ে কেন তিনি সুজন খন্দকারকে টাকা ধার দিয়েছে এবং তিনি তাকে চিনেন কিনা এ কথা জানতে চাইলে জবাবে এর কোন উত্তর দিতে না পেরে প্রতারক তাইজুল মোবাইল ফোনে কথা বলার ছলে ওই স্থান থেকে দ্রুত কেটে পড়েন।

এব্যাপারে বিবাদী সুজন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মামলার বাদী মো. তাইজুদ্দিন মোল্লা আমার বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

তার কাছ থেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে টাকা নেওয়াতো দূরের কথা তাকে আমি কোনদিন দেখিনি। তবে তার এক আত্মীয় সুদি মহাজন আসাদুজ্জামান আসাদের কাছে স্বাক্ষর করা দুটি খালি চেক জামানত হিসেবে রেখে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কিছু টাকা সুদে ধার নেই। পরবর্তীতে টাকা সুদে আসলে পরিশোধ করলেও সুদি আসাদ আমার সেই চেক দুটি ফেরত না দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিগত কিছুদিন পূর্বে আসাদ আমার নামে একটি চেক ব্যবহার করে চেক জালিয়াতির মামলা করে। সে মামলায় আমি একদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পাই। বর্তমানে আসাদ আবারও কূট-কৌশল করে তার কাছে থাকা অপর চেকটি দিয়ে সুদ ব্যবসার পার্টনার তার আত্মীয় তাইজুদ্দিনকে দিয়ে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

মামলার বিষয়ে কথা বলতে তাইজুলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কেন তিনি সুজন খন্দকারকে টাকা ধার দিয়েছেন জানতে চাইলে উত্তরে গ্যাসের ব্যবসার জন্য বলে জানান। প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারে ৮০ টাকা লাভে মধ্যে ৬০ টাকা দেওয়ার বিষয়টি তুলতে তিনি স্বাক্ষাতে কথা বলবে ও তার সাথে দেখা করতে বলেন।

এ ব্যাপারে আসাদের সাথে যোগাযোগ করে মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অনেকটা বিষ্মিতভাব দেখিয়ে বলেন, মামলা হতেই পারে টাকা যেহেতু পাওনা তার জন‍্য তো মামলা করতেই পারেন।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ