আজ ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংঘাত, সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার এগুলা কোনদিন শান্তি বযে আনেনা;ডি আই জি সিদ্দিকুর

রায়পুরা প্রতিনিধি

 

ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, সংঘাত, সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার এগুলা কোনদিন শান্তি বয়ে আনে না। আপনাদের যেকোন সমস্যা সমঝোতার ভিত্তিতে, আলোচনার ভিত্তিতে আমরা সমাধান করতে চাই।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দিঘলিয়াকান্দি গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়ার পর গতকাল রাত থেকেই গ্রামটি আমাদের গোয়েন্দা নজরদারীতে ছিলো। এ ঘটনায় আলমগীর নামে একজন নিহত হয়েছেন। আরো ২-১ জন আহত হয়েছেন ,তারা প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাদের অবস্হা আশংকা জনক বিধায় ঢাকা  রেফার্ড করেন।

সেখানে একজনের শরীরে পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিলো যা বিভিন্ন ছবিতে আমরা দেখতে পেয়েছি। ওনি আসলে কে…? তিনি কোন পুলিশ সদস্য কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরের ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে জেলা কারাগার সহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানের থানা ভেঙে অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করা হয়েছিলো। ধারনা করা হচ্ছে ওই সময় বিভিন্ন অস্ত্রের পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা এ ধরনের জ্যাকেট লুট করে এখন তারা এসব বিভিন্ন খারাপ কাজে ব্যবহার করছে। খুব দ্রুতই এসবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা সহ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনার কথা জানান তিনি।

এসময় নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: কলিমুল্লাহ, রায়পুরা থানা অফিসার ইনচার্জ মো আদিল মাহমুদ, বাঁশগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সহ প্রায় শতাধিক পুলিশ ও নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে সকাল ৭:৫০ মিনিটে নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে টেঁটা ও বন্দুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমগীর ওরফে আলম (২০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

সকাল ৮ টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে বেলা ১১টা পর্যন্ত। নিহত আলমগীর ওই ইউনিয়নের দীঘলিয়াকান্দি এলাকার জহর আলীর ছেলে। আহতদের কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন যাবত এলাকা ছাড়া ছিলেন বাঁশগাড়ির সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হকের সমর্থকরা। গতকাল শনিবার তারা এলাকায় ঢুকার খবরে রাত থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরপর সকালে আশরাফুলের লোকজন এলাকায় ঢুকতে গেলে বাঁধা দেয় প্রতিপক্ষ বর্তমান বাঁশগাড়ির চেয়ারম্যান রাতুল হাসান জাকিরের সমর্থকরা। এসময় দুপক্ষের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎক আলম নামে একজনকে মৃত ঘোষনা করেন। এছাড়াও বাকি আহতরা জেলা, উপজেলা সহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতলে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ