আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মেঘনায় ডুবে নিখোঁজ দুই মাদ্রাসার ছাত্রের একজনের মরদেহ উদ্ধার

আবুল কাশেম, নরসিংদী

নরসিংদীর মেঘনায় গোসল করতে নেমে ডুবে নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসার ছাত্রের মধ‍্যে মো. গালিব (১৪) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়নের গৌরীপুরার চরে (আফজালের চর) এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাইদুল ইসলাম মাহফুজ (১৬ ) নামে অপর ছাত্র এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নরসিংদীর ঘোড়াদিয়ার মুহম্মদীয়া ইন্টারন্যাশনাল তাহফুজুল কুরআন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ ৩৭ জন নৌ-ভ্রমণে গৌরীপুরার চরে আসে। বিকালে ফুটবল খেলা শেষে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিকাল ৫টার দিকে গোসল করতে নেমে গালিব ও সাইদুল ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয় বলে জানিয়েছেন করিমপুর নৌ-পুলিশের ফাঁড়ির পরিদর্শক ফরিদ আলম আহমেদ।

উদ্ধার হওয়া মো. গালিব নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দড়িহাওলা পাড়া গ্রামের পত্রিকার এজেন্ট আজিজুল হকের ছেলে। আর নিখোঁজ থাকা সাইদুল ইসলাম মাহফুজ রায়পুরা উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সদর থানার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের গৌরীপুরার চরে( যা আফজালের চর নামে পরিচিত) নরসিংদীর ঘোড়াদিয়ার মুহম্মদীয়া ইন্টারন্যাশনাল তাহফুজুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নৌ-ভ্রমণে যায়। তাদের সাথে দুজন শিক্ষকও ছিলেন। নৌ-ভ্রমণে এসে গৌরীপুরার চরে এসে বিকেলে ফুটবল খেলা শেষে গোসল করতে মেঘনা নদীতে নামে শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ‍্যে গালিব সাঁতার না জানায় নদীর কুলে হাটুপানিতে গোসল করতে নামে এবং সাইদুল ফুটবল ধরে পানিতে গোসলে নামে। গোসল শেষে সবাই নৌকায় উঠলেও গালিব ও সাইদুল উঠতে পারেনি। এর পর থেকে তারা দুজনে নিখোঁজ থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মধ‍্যরাত পর্যন্ত করিমপুর নৌ-পুলিশ সদস‍্য ও ফায়ার সার্ভিস সদস‍্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাদের খোঁজ মেলেনি। সকালে পূনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করলে দুপুরে গালিবের মরদেহ উদ্ধার করতে সমর্থ হয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। অপর মাদ্রাসা ছাত্র সাইদুলকে উদ্ধারে এই নিউজ লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

নিখোঁজ গালিবের বাবা আজিজুল হক বলেন, গালিব মুহম্মদীয়া ইন্টারন্যাশনাল তাহফুজুল কুরআন মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হাফেজ হয়েছে। পরে তাকে জামিয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। সেখানে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত সে।

“তবে গালিব মুহম্মদীয়া মাদ্রাসায় গিয়ে কুরআন শরিফ রিভিশন দিত নিয়মিত। ওই মাদ্রাসার ছাত্রদের সঙ্গে সেও পিকনিকে যায়। বিকেলে পানিতে নেমে সে তলিয়ে যায়।”

নৌ-পুলিশের পরিদর্শক ফরিদ আলম শুক্রবার বলেন, একজনকে ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। অপর মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করে যাচ্ছে।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ