আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামী গ্রেফতার; রায় কার্যকর করার দাবী

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ.

দীর্ঘ ১৪ বছর ছদ্মবেশে থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষাবিত্তি করে বেড়িয়েও শেষ রক্ষা হয়নি একাধিক হত্যা মামলার ফাঁসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামীর। সোমবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গাজীপুর সদর উপজেলার আমবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে বাবা ছেলেকে গলাকেটে হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা মামলার ফাঁসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একই পরিবারের ৩ সদস‍্য।

তারা হলেন উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের মৃত মইজ উদ্দিনের ছেলে আলেক মিয়া (৬৫), তার ছেলে শরীফ মিয়া (৩৮) ও আলেক মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ রুপবান (৫৭)।

এ নিয়ে সোমবার বিকালে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে প্রেস বিফ্রিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান জানান, ২০০৯ সালের দিকে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধে শামসুল হক (৪৮)কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের দিকে শামসুল হক হত্যা মামলার বাদী তার ছেলে জহিরুল হক (২৮) কেও প্রকাশ্যে কুপিয়ে গলাকেটে হত্যা করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা। শামসুল হক হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ২২ মে তারিখে মোট ১২ জন আসামীর মধ‍্যে ৬ জনকে খালাস ও বাকী ৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয় নিম্ন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ জনের মধ্যে একজন জেলহাজতে থাকলেও বাকিরা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পলাতক ছিল। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়ে ভিক্ষাবিত্তি করে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মধ‍্যে এখনো শরাফত মিয়া ও আব্দুল গাফফার মিয়া পলাতক রয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান ।

এদিকে স্বামী ও শ্বশুর হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানান নিহত জহিরুল হকের স্ত্রী রোজিনা আক্তার। স্বামী ও শ্বশুর হত্যার বিচার চাওয়ায় প্রতিনিয়ত আসামীদের ও আসামী পক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে দুই শিশু সন্তান নিয়ে ভিটেবাড়ি ছেড়ে কয়েক বছর যাবত মানবেতর জীবন-যাপন করছি।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের দিকে পহেলা বৈশাখ রাতে মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দুই সন্তানের চোখের সামনে তার স্বামী দিনমজুর জহিরুল হককে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে। এর আগে ২০০৯ সালের তার শ্বশুরকেও একইভাবে হত্যা করে তারা। সে সময় তার শাশুড়ি নূরজাহান বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে তার শাশুড়ি মারা গেলে মামলার বাদী হন তার স্বামী জহিরুল। আসামিরা তার স্বামীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে বলেছিল, তাকেও তার বাবা সামসুলের মতো হত্যা করা হবে। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই কথার প্রতিফলন ঘটায়।

জহিরুল হত‍্যার ঘটনায় পলাশ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামী করে রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিল। যা এখনো নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান। এরপর থেকেই আসামীরা ফোনে ও আসামী পক্ষের স্বজনরা সরাসরি হুমকি দেওয়ার কারণেই রোজিনা আক্তার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর বাপের বাড়িতে ছিলেন।

রোজিনা আক্তার পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফাঁসিরদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ওই দুই আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করাসহ গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর দেখতে চান তিনি।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ