আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মনোহরদীতে বিএনপির সমাবেশে রণক্ষেত্র, পুলিশসহ ৪৫ জন আহত

মনোহরদী প্রতিনিথি

নরসিংদীতে বিএনপির সমাবেশ পুলিশসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ৮ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পুলিশ সদস্য রয়েছেন অন্তত ১০ জন।

রবিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জেলার মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর এলাকায় বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিএনপি নেতারা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোলায় দুই নেতার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজনের করে মনোহরদী উপজেলা বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশটি ডাকা হয়। সমাবেশ অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব মনজুর এলাহি। এ সময় নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান দোলনসহ বিভিন্ন স্তরের দশ সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেতাকর্মীরা একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কের দিকে এগোতে থাকে। বাঘবের নামক এলাকায় পৌঁছলে মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও শটগান থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে মিছিলটি সেখান থেকে হাফিজপুর সুনিয়া মঞ্জিল প্রাঙ্গণে ফিরে যায়। সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের ইটের আঘাতে শিবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেজবাহ উদ্দিন, মনোহরদী থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন, ওসি তদন্ত জহিরুল আলমসহ পুলিশের ১০জন সদস্য আহত হয়েছেন।

মনোহরদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মনোহরদী উপজেলার হেতেমদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইটভাটায় এ সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু সরকার দলীয় লোকজন স্থানটির আশপাশ এলাকা আগেই ‘দখল’ করে নিয়েছে। নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসার সময় এবং মিছিলে অংশগ্রহণ করায় পুলিশ ও আওয়ামীলীগের লোকজন হামলা চালায়। পুলিশের রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ ২৮ জন এবং লাঠিপেটায় আরও ৫-৭জন আহত হয়েছেন। এতে মনোহরদী পৌরসভা শ্রমিকদলের সভাপতি বাবুল কমিশনার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, রমজান তালুকদার, মনি, খোকন, নজরুল ইসলামসহ প্রায় ৩৫ নেতা-কর্মী আহত হন।’

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মবর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ