আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নরসিংদীতে কোনঠাসা বিএনপি

খাসখবর প্রতিবেদক

নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় আছে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা । রাজনৈতিক মামলাগুলোর মধ্যে জেলায় যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলায় বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ ও সক্রিয় নেতাদের অনেককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করছে শীর্ষ দুই নেতাসহ শতাধিক নেতাকর্মী। জোড়া খুনের মামলায় বন্দি আছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক খায়রুল কবির খোকন ও নাশকতা মামলায় সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহী। এছাড়া যে সকল নেতা বাইরে আছে তারাও গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াছেন। মামলা ও সরকার দলীয়দের বাধায় মুখে নরসিংদীতে কোনঠাসা অবস্থায় বিএনপি।

বাংলাদেশে সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ৩৭ শতাংশ ভোট পাওয়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন জনসমাবেশ কররতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পড়তে হচ্ছে সরকারের তোপের মুখে, শিকার হচ্ছে মামলা হামলার। তাছাড়া গ্রেফতার আতঙ্কতো আছেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলার আসামি হয়ে ও গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছাড়া আছেন জেলার অধিকাংশ বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা। ফলে বিএনপি এখন অনেকটাই মাঠছাড়া। তাছাড়া আভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়টি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদেরকে মাঠে না দেখা গেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেরই সরব উপস্থিত চোখে পড়ে। মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার বন্ধ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাসহ নেতাকর্মীদের ঐক্যদ্ধ থাকতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

এদিকে বিএনপি মাঠছাড়া হলেও প্রচারণায় সরব রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও একাধিক মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে এলাকা ছাড়া রয়েছেন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী। যারাও রয়েছেন তারাও শঙ্কায় ভুগছেন, আছেন গ্রেফতার আতঙ্কে। শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয় যারা ইতিপূর্বে বিএনপির সাথে কোনরকম সম্পৃক্ত ছিল কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির বাহিরে অবস্থান করছেন তারাও অজানা আতঙ্কে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা,যায় নরসিংদীতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী রাজনৈতিক মামলা গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। চলমান অবরোধের দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের দেখা মিলছে না। মাঝে মধ্যে ঝটিকা মিছিলে শামিল হয়ে ছবি তুলেই আবার হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে হরতাল অবরোধের মতো দলীয় কর্মসূচি গুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে দেখা না গেলেও বিএনপি ঢাকা কর্মসূচি গুলোর প্রতিবাদে রাজপথে সরব ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের পর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে। ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে কয়েকটি মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় এক হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকেই এখন ঘরছাড়া। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এখানে-ওখানে। মামলার আসামিরা তো বটেই, মামলা নেই এমন নেতাকর্মীও বাসায় থাকার সাহস পাচ্ছে না। অনেকের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

নাম না প্রকাশে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা জানান, মহাসমাবেশের পর থেকেই নরসিংদীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসছেন না। গত রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালে মিছিল হলেও সেটা খুব সকালে। তাও আধা ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের বাধায় শেষ হয়। এরপর টানা তিনদিনের অবরোধে শহর ও শহরতলীর দু-একটি মিছিল হলেও উপজেলাগুলোতে কর্মসূচি নেই বললেই চলে। শহরের চিনিশপুর জেলা বিএনপি কার্যালয় ও ব্রাহ্মন্দী মোড়ও গত এক সপ্তাহ ধরে নেতাকর্মী শূন্য। বন্ধ রয়েছে দলীয় কার্যালয়।

নরসিংদী জজ আদালতের বিএনপি দলীয় আইনজীবি, রায়পুরা থানা বিএনপি আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারে আমলে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহবায়ক খায়রুল কবির খোকনের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ নরসিংদীতে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি শুধু মাত্র হত্যা মামলা যা গত মে মাসে রুজু করা হয়েছিল। এছাড়া জেলার এই শীর্ষ নেতার নামে বিভিন্ন মামলাগুলোর অধিকাংশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক নাশকতা ও বিষ্ফোরক আইনে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলা। দলীয় আভ্যন্তরিন কোন্দলে ফলে নরসিংদী দুই ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলা জেলা বিএনপির আহবায়ক খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী শিরিন সুলতানাকে জড়িয়ে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে তাদের সম্পৃক্ততা কতটুকু বা আদৌ এ ব্যাপারে তারা জড়িত আছেন কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপর দিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহীর বিরুদ্ধে খুব একটা মামলা ছিলনা। জেলার ধনার্ঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবেই উনাকে সবাই চিনতেন। গত ২২ অক্টোবর নরসিংদী সদর মডেল থানায় বিএনপির ৪২ জন নেতাকর্মীকে আসামী করে নাশকতা ও বিষ্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ঐ মামলায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহীকে ৫ নং আসামী করা হয়েছিল। মামলা পরদিন ২৩ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আরও দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখায়। তার নামে ৫-৬টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বলে জানান এই আইনজীবি।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ