আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চাঞ্চল্যকর শিশু ইয়ামিন হত্যার রহস্য উম্মোচন; ৪ জন গ্রেফতার

মাজহারুল ইসলাম রাসেল

নরসিংদীর রায়পুরায় অপহৃত ইয়ামিন মিয়া (৮)’র গলিত লাশ একটি পরিত্যাক্ত ডোবা থেকে উদ্ধার করার এক দিন পর অপহরণের ৪ যুবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার উত্তর বাখরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নরসিংদী জেলা পুলিশ এ তথ্য জানায় ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাখরনগর গ্রামের নূরুল হকের ছেলে সিয়াম উদ্দিন (১৮), আসাদ মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২৪), মৃত রাজা মিয়ার ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৫৪) ও পিরিজকন্দি গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (১৭)।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর থেকে শিশু ইয়ামিন মিয়া নিখোঁজ ছিল এবং গত শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার লাগ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইয়ামিন মিয়া উত্তর বাখরনগর গ্রামের প্রবাসী জামাল মিয়ার ছেলে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টিভিতে ক্রাইম পেট্রল ও সিআইডি সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে গেমিং ল্যাপটপ কিনে ইউটিউবে গেম আপলোড করে টাকা উপার্জন করা সিদ্ধান্ত নেয় দুই বন্ধু সিয়াম ও রাসেল। তবে গেমিং ল্যাপটপ কিনতে তাদের প্রয়োজন ছিল টাকার। সে টাকার জোগান দিতে দুই বন্ধু সিয়াম ও রাসেল মালেশিয়া প্রবাসী জামাল উদ্দিনের ৮ বছরের শিশু ইয়ামিনকে অপহরণের পরিকল্পনা করে।

পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক গত ২৮ নভেম্বর দুপুরে ইয়ামিনকে অপহরণ করে তারা। অপহরণ করে রাসেল ও সিয়াম মিলে তাকে সিয়ামের বাড়ির এক নির্জন রুমে হাত-পা বেঁধে আটকে রাখে। সেদিনই মোবাইল ফোনে স্ক্রিপ্টেডবায়া এবং ভিপিএন অ্যাপ ব্যাবহার করে ফোন করে ইয়ামিনের মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা।

মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণের দিন রাতেই হাত-পা বেঁধে বালিশ চাপা দিয়ে রাসেল এবং সিয়াম দুই বন্ধু মিলে শিশু ইয়ামিনকে হত্যা করে। হত্যার পর, তার মরদেহ বস্তায় ভরে সিয়ামের বাড়ির পাশে একটি গোয়ালঘরে রেখে দেয়। ঘটনার চারদিন পর বস্তাবন্দী মরদেহ ওই ডোবায় ফেলে দেয় তারা।

এর আগে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:আজিজুর রহমান জানান, অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। নিখোঁজ ওই শিশুর মা বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে কারও নাম উল্লেখ না করলেও তিনি তিনজন ব্যক্তিকে সন্দেহ করেন বলে আমাদের জানিয়েছিলেন।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ