আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

গৌরাঙ্গ দাস হত্যার ন্যায় বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

কাজী রুনা লায়লা

বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। দীর্ঘ ২৩ বছর যাবৎ পিতৃ হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন আদালত পাড়াসহ প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়লে ও পাহাড়াদার গৌরাঙ্গ দাস হত্যার বিচার আজও হয়নি। ওল্টো বিচারকার্যকে প্রভাবিত করার পায়তারা করছে হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ সহ একটি স্বার্থান্বেসীমহল। মঙ্গলবার বিকেলে গৌরাঙ্গ দাস হত্যার ন্যায় বিচারের দাবীতে পরিবারের লোকজন পক্ষ থেকে নরসিংদী শহরতলীর হাজীপুরস্থ নিজ বাড়ীতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত গৌরাঙ্গ দাসের বড় ছেলে চন্দন দাস, লিখিত বক্তব্যে তিনি, আমার পিতাকে যারা অমানুষিক নির্যাতন শেষে হত্যা করেছে। আমি তার বিচার চেয়ে জেলার বিভিন œআদালতসহ উচ্চ আদালতে গিয়েছি। সেই সাথে প্রশাসনের বিভিন্নকর্তা ব্যক্তির দ্বারস্থ হয়েছি। ইতোমধ্যে প্রায় ২৩ বছর গত হয়েছে কিন্তু আজও আমরা আমাদের পিতার হত্যার বিচার পাইনি। আমার পিতার হত্যাকারীরা বিচার কার্যকে প্রভাবিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, আমার পিতা গৌরাঙ্গ শমশের জুট মিলে চাকুরি করতেন। তিনি এই হত্যাকারী চক্রের নির্মল দাস (বদ্দা) ও নিরঞ্জনসহ প্রায় ৮/১০ জন ব্যক্তি ১৯৯৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তারিখে পূর্বে একটি দেওয়ানী মামলাার বিষয়ে কথা বলার (বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে) জন্য নরসিংদী বাজার পাট পট্টি শমশের জুট মিলে ভাড়া করা একটি রুম থেকে আমার পিতা গৌরাঙ্গ দাসকে ডেকে নেয়। পরে দিন ওই রুমের পাশ্বর্বতী সততা ভান্ডারের চালের গোডাউন থেকে পুলিশ হাত-পা বাধা অবস্থায় পুলিশ আমার পিতার মৃত দেহ উদ্ধার করে।

লিখিত বক্তব্যে চন্দন দাস আরও বলেন, আমার পিতার হত্যাকারীরা অর্থে-বৃত্তে এতোটাই শক্তিশালী ইতোমধ্যে মামলার স্বাক্ষীদের অর্থের বিনিময়ে তাদের নিজেদের পক্ষে নিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়াও আমাদেরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে ৫/৬টি মামলা দায়ের করে। আমরা সল্প আয়ের মানুষ আর তাই মামলার পিছনে ছুটতে ছুটতে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সল্প আয়ের গরিব মানুষ বিদায়ই অনেক মানুষই আমাদেরকে নিয়ে উপহাস করে। এতে বিচারকার্য অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

চন্দন দাস বলেন, আমার পিতার মৃত’্যর পর চালের গোডাউনের মালিক গৌতম কুমার সাহা কৌশলে আমার পিতা হত্যা মামলার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। আমার প্রশ্ন থাকে যে, আমরা জীবিত থাকা অবস্থা কি করে গৌতম আমার পিতার হত্যা মামলার বাদী হলেন। আদালতে তার এই বাদীর বিষয়ে আমি নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলার বাদী থেকে গৌতমের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং আসামী হিসেবে তার নাম মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে গৌতম আসামী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে বিভিন্ন কূট-কৌশল শুরু করে এবং আমাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করতে থাকে। এ অবস্থায় আদালতের কাছে পিতৃহারা আমাদের এই অসহায় পরিবারে আকুল আবেদন এই যে আদালত যেন কোন কিছুতেই কোন ভাবেই প্রভাবিত না হয়। আমরা আশা করছি সকল দিক বিচার বিশ্লেষণ পূর্বক আমার পিতা গৌরাঙ্গ দাস হত্যার রায় ঘোষণা করবেন এবং হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত সাজা প্রদান করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহত গৌরাঙ্গ দাসের স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী দাস, ছেলে ছোটন দাস ও নাতী সুশান্ত দাস।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত গৌরাঙ্গ দাসের স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী দাস তার বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী সাথে আমাদের প্রতিবেশী ািনর্মল দাসের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদ ছিল। সেসময় নির্মল দাস প্রায় আমার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্যদের নানা ভাবে হুমকি-দমকি প্রদান করতো। বর্তমানেও আসামীরা আমাদেরকে হুমকি-দমকিসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রাণী করে যাচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার স্বামী হত্যার ন্যায় বিচার দাবী করছি।

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ